বিশ্রামাগার ও শৌচাগার থাকলে ঝুলছে তালা; দুর্ভোগে পর্যটকরা

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:২৩

আসাদুজ্জামান সাজু

উত্তর অঞ্চলের দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার নওদাবাস ইউনিয়নের শালবনটি অন্যতম। ৮৬ দশমিক ৬২ একর জমির ওপর প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে ওঠা এ শালবনে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক পরিবারসহ ঘুরতে আসেন। প্রকৃতি প্রেমীদের আগমনে শালবনটি যেন প্রাণ ফিরে পায়। কিন্তু শালবনের শৌচাগারটি বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়তে হয় ঘুরতে আসা পর্যটকদের। তবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দাবী, বন বিভাগ যদি ইউনিয়ন পরিষদের সাথে সমস্যা গুলো নিয়ে আলোচনা করে তাহলে এ সমস্যা দ্রুত সমাধান সম্ভব।

জানা যায়, ২০১৫ সালে জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় লালমনিরহাট জেলার পর্যটন খাতে উন্নয়নের লক্ষ্যে ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে এ শালবনটির প্রচীর, দর্শনার্থীদের জন্য ডিজিটাল বিশ্রামাগার ও শৌচাগার নির্মাণ করে সরকার। ওই বছরের ২৫ ডিসেম্বর প্রকল্পের পরিচালক শামসুল আলম কাজ শেষে নিজেই দৃষ্টিনন্দন এ শৌচাগারের উদ্বোধন করেন। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকার অজুহাতে উদ্বোধনের পরদিন থেকেই শৌচাগারের দরজায় ঝুলছে তালা। দর্শনার্থী ও পিকনিকের জন্য আসা মানুষজন খাবার পানি সংগ্রহের জন্য বসানো টিউবয়েলটিও নেই। শুধু পাইপ পড়ে আছে। 

এ ছাড়া জনবল না থাকায় অপরাধীদের অভয়াশ্রমে পরিণত হচ্ছে শালবনটি। প্রতিদিন ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে সংঘবদ্ধ চক্র কেড়ে নিচ্ছে মোবাইল ফোনসহ নগদ টাকা। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় নিরাপদ মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে শালবন। এ সব কারণে দিন দিন পর্যটক হারাচ্ছে এই ইকো-ট্যুরিজম পার্কটি।

সম্প্রতি একদল সাংবাদিক পরিবারসহ সরেজমিনে শালবনে গিয়ে শৌচাগারে তালা ঝুলে থাকতে দেখে বন বিভাগের অফিসে খোঁজ নিয়ে তালা খুললে বেরিয়ে আসে দুর্নীতির চিত্র। টয়লেটের প্যান বসানো হলেও তাতে দেওয়া হয়নি পয়ঃনিষ্কাশন পাইপ। ফলে মল তো দূরের কথা পানিও নিচে নামে না। পানির ট্যাংক বসানো হলেও নেই মটর বা পানি উঠানোর ব্যবস্থা। বেসিন দেওয়া হলেও তা নড়বড়ে-নামসর্বস্ব। নামমাত্র ঢালাই দেওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে চুয়ে পড়ে পানি। সব মিলিয়ে অযত্নে পোকামাকড়ের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে এ শৌচাগার। 

পর্যটন শিল্পের বিকাশের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় দিন দিন নষ্ট হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন এ শালবনটি। দর্শনার্থীরা এসে শৌচাগারের অব্যবস্থাপনায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এত বিশাল বন রক্ষায় এখানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দু'জন বন প্রহরী। 

শালবনে ঘুরতে আসা নুরনবী-শাবনুর বলেন, শাল ও বেতের ঝাউ গাছ দেখতে প্রকৃতির সঙ্গে মিশতে শালবনে এসেছি। অনেক ভালো লাগছে এ শালবনে ঘুরে কিন্তু শৌচাগার থাকলেও তাতে তালা ঝুলছে। ছেলেরা যত্রতত্র প্রাকৃতিক কাজ সেরে নিলেও বেশ বিপাকে পড়েতে হয় নারী দর্শনার্থীদের। নেই পর্যপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও খাবারের দোকান। সরকার উদ্যোগ নিলে এটি পর্যটন শিল্পে ব্যাপক অবদান রাখতে পারবে বলে দাবি করেন তারা। 

শালবনের প্রহরী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা দু'জন প্রহরী পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করি। যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। টিউবওয়েল চুরি যাওয়ার ভয়ে খুলে রাখা হয়েছে। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘুরতে এলে কোয়াটারের শৌচাগার ব্যবহার করেন। 

নওদাবাস ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অশ্বিনী কুমার বসুনিয়া বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন এ শালবনে। কিন্তু শৌচাগারটি বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের। বন বিভাগ যদি ইউনিয়ন পরিষদের সাথে সমস্যা গুলো নিয়ে আলোচনা করে তাহলে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব। 

লালমনিরহাট বন বিভাগের বন কর্মকর্তা নুরনবী বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকার কারণে শৌচাগার বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া জনবল সংকট থাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব না হলেও সন্ত্রাসী বা মাদক বিক্রেতাদের আনাগোনা নেই। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত