টি-টোয়েন্টি সিরিজ

ইংল্যান্ডের জয় কেড়ে নিল পাকিস্তান

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৭:৩৯

সাহস ডেস্ক

শেষ ৩ ওভারে ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ৩৩ রান। পাকিস্তানের প্রয়োজন ৩ উইকেট। এমন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে অধিনায়ক বাবর আজম বল তুলে দিলেন মোহাম্মদ হাসনাইনের হাতে। কিন্তু হাসনাইনের করা ১৮তম ওভারের প্রথম ৪ বলেই ছিটকে যায় পাকিস্তান। প্রথম বলে ছক্কা ও পরের তিন বলে টানা ৩ চার, এই ৪ বলেই ১৮ রান তুলে নেন লিয়াম ডসন। এতে ম্যাচ ইংলিশদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। কিন্তু শেষ ২ ওভারে অবিশ্বাস্যভাবে ফেরে পাকিস্তান। ১৯তম ওভারটি বাবর আজম তুলে দেন হারিস রউফের হাতে। ওই ওভারে রউফ দেন মাত্র ৫ রান, ফেরান পাকিস্তানের গলার কাটা ডসনকে। এরপর শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের দরকার ৪ রান। শেষ ওভারটি করতে আসেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। ওই ওভারে রান আউট হন রিস টপলি। এতে ৩ রানের জয় যায় বাবর আজমের দল।

রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) করাচি স্টেডিয়ামে ৭ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের ৪র্থ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৩ রানে হারিয়ে ২-২ সমতা ফেরে বাবর আজমের দল। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম দল হিসেবে এদিন ২০০তম ম্যাচ খেলেছে পাকিস্তান। অসাধারণ জয় দিয়েই মাইলফলক রাঙাল দলটি। এদিন টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান করে পাকিস্তান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৯.২ ওভারে সব উেইকেট হারিয়ে ১৬৩ রান তুলতে সক্ষম হয় ইংল্যান্ড।

পাকিস্তানের হয়ে ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ফর্মের চূড়ায় থাকা উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ৬৭ বলে খেলেন ৮৮ রানের ইনিংস। তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ১টি ছক্কায়। শেষ ওভারে টপলির শিকার হয়ে ফেরেন রিজওয়ান। তবে ১১.৫ ওভারে ৯৭ রানের উদ্বোধনী জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিতই পেয়েছিল স্বাগতিকরা। এরপর বাবর আজম ফিরলে রানের চাকা শ্লথ হয়ে যায়। হাত খুলতেই পারেননি মাসুদ শান। রিজওয়ানও ব্যর্থ হন আগ্রাসী ভূমিকা নিতে। দলনেতা বাবর আজম ২৮ বলে ৩টি চারে ৩৬ রান করে ফেরেন। ১৯ বলে ২১ রান করে ফেরেন মাসুদ শান। পরে অপরাজিত আসিফ আলি ২ ছক্কায় ৩ বলে ১৩ রান করলে ১৬৬ পর্যন্ত পৌঁছায় পাকিস্তান। ইংলিশদের হয়ে ৪ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার টপলি। লিয়াম ডসন ও উইলি ১টি করে উইকেট নেন।

পাকিস্তানের দেয়া লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে মহাবিপাকে পড়ে ইংল্যান্ড। প্রথম ওভারে বাঁহাতি স্পিনার নওয়াজ ফেরান ফিল সল্টকে। দ্বিতীয় ওভারে মোহাম্মদ হাসনাইন ৫ বলের মধ্যে তুলে নেন অ্যালেক্স হেলস ও উইল জ্যাকসকে। চাপ সামলে ৩২ বলে ৪৩ ও ৩৬ বলে ৪৯ রানের দুটি ভালো জুটি পায় ইংল্যান্ড। জুটিগুলোতে বিপজ্জনক রূপ নেয়া ব্যাটারদের সাজঘরে পাঠান নওয়াজ। বেন ডাকেট এলবিডব্লিউ হন ২৪ বলে ৩৩ করে। অধিনায়ক মঈন আলি স্টাম্প হারান ২০ বলে ২৯ রানে। দ্রুত আরও ২ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের চালকের আসনে বসে পড়ে পাকিস্তান। একপ্রান্ত আগলে থাকা হ্যারি ব্রুককে বিদায় করেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। তার ব্যাট থেকে আসে ২৯ বলে ৩৪ রান। ডেভিড উইলিকে বোল্ড করেন রউফ।

১৩০ রানে ৭ উইকেট হারানো ইংল্যান্ড উল্টো ম্যাচ মুঠোয় নিয়ে আসে ডসনের ব্যাটিংয়ে। ১৮তম ওভারে হাসনাইনকে বেধড়ক পেটান তিনি। প্রথম বলেই লং-অফ দিয়ে ছক্কা। পরের ডেলিভারিটি ছিল নো। ডসন মেরে দেন বাউন্ডারি। এরপর টানা আরও ৩টি চার হাঁকান। সব মিলিয়ে ওই ওভার থেকে আসে ২৪ রান। তবে একেবারে শেষ মুহূর্তে রউফ ছিনিয়ে আনেন পাকিস্তানের নাটকীয় জয়। ১৯তম ওভারের তৃতীয় বলে ডসন মিড উইকেটে ক্যাচ দেন বদলি ফিল্ডার মোহাম্মদ হারিসের হাতে। ১৭ বলে তিনি করেন ৩৪ রান। এরপর অভিষিক্ত স্টোন হন বোল্ড। শেষ উইকেট টপলি রানআউট হলে ১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ খুইয়ে ফেলে ইংলিশরা।

পাকিস্তানের হয়ে ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন হ্যারিস রউফ। ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে সমান ৩ উইকেট নেন মোহাম্মদ নওয়াজ। হাসনাইন ২টি ও ওয়াসিম ১টি করে উইকেট নেন। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে রিজওয়ানকে ছাপিয়ে বল হাতে নায়ক বনে যান রউফ। ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
আপনি কী মনে করেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ সন্তোষজনক?