ফ্রান্সকে রুখে দিল হাঙ্গেরি

প্রকাশ : ২০ জুন ২০২১, ০২:৫৩

সাহস ডেস্ক

পুরো ম্যাচ জুড়ে হাঙ্গেরিয়ানদের দাপট দেখিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। তবুও জিততে পারল না। বরং স্রোতের বিপরীতে গোল খেয়ে বসল ফরাসিরা। তবে গোলটি শোধ দিলেও পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারেনি ফ্রান্স। ড্র করে ১ পয়েন্ট তুলে নিল হাঙ্গেরি।

শনিবার (১৯ জুন) বুদাপেস্টের ফেরেঙ্ক পুসকাস স্টেডিয়ামে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে ফ্রান্সের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে হাঙ্গেরি।

এফ গ্রুপে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ফ্রান্স। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়তে আছে জার্মানি। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয়তে আছে পর্তুগাল। সমান ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে আছে হাঙ্গেরি।

এর আগের ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ৮০ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করেছিল হাঙ্গেরি। তবে শেষের দিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে আর আটকে রাখতে পারেনি। শেষ দশ মিনিটে রোনালদোর দুই গোলে পর্তুগাল ম্যাচ জিতে নিয়েছিল ৩-০ গোলে।

তবে আজ শুরু থেকে ফ্রান্সের বিপক্ষে চাপের মুখে থাকলেও প্রথম গোলটি হাঙ্গেরিই তুলে নিয়েছে। বিরতিতে যাওয়ার আগে আত্তিলা ফিওলা গোলটি করেন। ম্যাচের ৪৫+২ মিনিটের সময় ফরাসি রাইটব্যাক বেঞ্জামিন পাভার বল ঠিকমতো বিপদমুক্ত করতে পারলেন না, বল গেল হাঙ্গেরির স্ট্রাইকার রোলান্দ সাল্লাইয়ের কাছে। তিনি বল বাড়ালেন আক্রমণসঙ্গী ফিওলার দিকে। পাভারকে এড়িয়ে, ভারানকে কাটিয়ে ফিওলা হঠাৎ নিজেকে আবিষ্কার করলেন ফ্রান্স গোলপোস্টের কাছে, সেখান থেকে তার মাটি কামড়ানো শট আর ঠেকাতে পারলেন না ফরাসি গোলকিপার উগো লরিস। এতে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে বিরতিতে যায় ফ্রান্স।

তার আগে ১৪ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত ফরাসিরা। বক্সের সামনে এমবাপ্পের কাছ থেকে পাস ধরে বেনজেমা বক্সের বাইরে থেকেই নিচু শট করলেন, হাঙ্গেরি গোলকিপার গুলাচি তা কোনো রকমে ফিরিয়ে দিলেন। কিন্তু বল পড়ল আবার গ্রিজমানের পায়ে। তার শট ফিরিয়ে দেন হাঙ্গেরির সেন্টারব্যাক উইলি অরবান। এরপর ১৭ মিনিটে ৩১ মিনিটে দারুন সুযোগ নষ্ট করেছে ফরাসিরা। উল্টো বিরতিতে যাওয়ার আগে পিছিয়ে পরল ফ্রান্স।

ইউরোতে এবার হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের এই স্টেডিয়াম দর্শক ছিল পরিপূর্ণ। সেখানে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যেতে দেখা লাল-রঙা গ্যালারির ছিল তখ উম্মদনা। ২০২০ সালের মার্চ থেকে প্রায় গৃহবন্দি ফুটবলে স্টেডিয়ামের গ্যালারিজুড়ে এমন গগনবিদারী চিৎকার যেন খেলাটিতে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনলো।

পিছিয়ে থাকা ফ্রান্সের কোচ দ্বিতীয়ার্ধে মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন রাবিওর বদলে মাঠে নামিয়ে দিলেন গতিশীল উইঙ্গার ওসমান দেম্বেলেকে। বাঁ দিকে এমবাপ্পের গতি আর চাতুর্য সামলাবে, নাকি ডানদিকে দেম্বেলের? সেটিও যদি কোনোরকমে সামলানো যায়, তো সামনে বেনজেমা আর তার পেছনে প্লেমেকারের ভূমিকায় নামা গ্রিজমান বক্সে অপেক্ষায়!

কিন্তু আর ঠেকাতে পারল না হাঙ্গেরি। ৬৬ মিনিটে ডানদিকে দুই ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে এমবাপ্পে নিচু ক্রস পাঠালেন বক্সে, হাঙ্গেরিয়ান এক ডিফেন্ডার বলে পা লাগিয়েছিলেন বটে। কিন্তু বল চলে গেল বক্সের মাঝে, সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা গ্রিজমান গোল করতে ভুল করলেন না। এতে সমতায় ফেরে ফ্রান্স।

সমতায় ফিরে জয়ের জন্য আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দিল ফ্রান্স। কিন্তু হাঙ্গেরি সর্বস্ব দিয়ে তাদের রুখেছে। এর মধ্যেও এমবাপ্পে দুবার গোলের কাছাকাছি গেলেন। ৬৯ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গ্রিজমানের ক্রসে এমবাপ্পের শট লাগল পাশের নেটে। বেনজেমার বদলি নামা অলিভিয়ের জিরুর পাস ধরে এমবাপ্পের শট ৮২ মিনিটে ফিরিয়ে দেন হাঙ্গেরিয়ান গোলকিপার। পরে শত চেষ্টা করে আর একটি গোলের দেখা পায়নি ফ্রান্স। অবশেষে নিজেদের মাঠে ১ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ল হাঙ্গেরি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
আপনি কী মনে করেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ সন্তোষজনক?