চ্যাম্পিয়নস লিগ এলেই যেন অন্যগ্রহের দল হয়ে যায় রিয়াল

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২১, ১৬:০৭

চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে আসলেই যেন অন্যগ্রহের দল হয়ে যায় স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। সের্হিও রামোস, রাফায়েল ভারান, দানি কারভাহালদের মতো মূল সেন্টারব্যাকরা কেউই ছিলেননা চোট কিংবা অসুস্থতার কারণে। তবুও দমে যায়নি রিয়াল, ভাঙাচুড়া দল নিয়েই বীরত্বের সহিত সহজ জয় নিয়েই ফিরেছে স্পেনের ক্লাবটি।

এদিকে সেন্টার ব্যাক নিয়ে একই অবস্থা লিভারপুলের, চোটের কারণে দলে ছিল না মূল সেন্টারব্যাকরা। আবার নিয়মিত আক্রমণভাগের রবার্তো ফিরমিনোকে নামাননি কোচ, তাকে বসিয়ে নামানো হয়েছিল ফর্মে থাকা দিওগো জোতাকে। সঙ্গে সাদিও মানে আর মোহাম্মদ সালাহ। সব মিলিয়ে দুই দলের অবস্থা একই রকমই ছিল। দুই দলই ৪-৩-৩ একই ফর্মেটে নেমেছিল। তবে রিয়াল খুব ভালোভাবেই জানত, লিভারপুলের ওপরে উঠে আসা রক্ষণভাগকে নিয়মিত আক্রমণ করার মাধ্যমে ফাটল ধরাতে হবে। আর সে কাজটিই করেছে জিদান শিষ্যরা।

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোড়া গোলে ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলকে সহজেই হারিয়ে সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রাখলো স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ।

মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সান্তিয়াগো বার্নাবুতে ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যদের ৩-১ গোলে হারিয়েছে জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা।

এদিন শুরু থেকে লিভারপুলকে চেপে ধরে রিয়াল। আর এতে প্রথমে এগিয়ে যায় রিয়াল। ম্যাচের ২৭ মিনিটে লিভারপুলের ডানদিকের দুই সেন্টারব্যাকের মাঝখানের ফাঁকা জায়গা উদ্দেশ্য করে দৌড়ে যাওয়া ভিনিসিয়ুসের দিকে লক্ষ্য করে নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে নিখুঁত বল বাড়ান এই টনি ক্রুস। সেখান থেকে গোল করতে একটুও সমস্যা হয়নি গতিশীল এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের। গোটা মৌসুম জুড়ে 'ফিনিশ' করতে পারেন না, এমন অপবাদ শোনা ভিনিসিয়ুস যেন এই ম্যাচে অপবাদ ঘোচাতেই নেমেছিলেন। এদিকে দারুন ফর্মে আছেন জার্মান মিডফিল্ডার টনি ক্রুস। তাকে আটকাতে হয়তো ভুলেই গিয়েছিল ক্লপের শিষ্যরা। এতে ১-০ তে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।

তবে বিরতিতে যাওয়ার আগে আরেকবরা এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ওই টনি ক্রুসের বাড়ানো পাস হেড করে বিপদ্মুক্ত করতে গিয়ে উল্টো দলের বিপদ আরও ডেকে আনেন লিভারপুলের রাইটব্যাক ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আরনল্ড। সেখান থেকে বল পেয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন স্প্যানিশ উইঙ্গার মার্কো আসেনসি। এই গোলেও দায় আছে লিভারপুলের ভঙ্গুর রক্ষণের। এই নিয়ে টানা চার ম্যাচে গোল করলেন আসেনসিও। ক্যারিয়ারে এর আগে আর কখনো এই কীর্তি গড়তে পারেননি তিনি। পরে এই ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।

বিরতি থেকে ফিরে এসে ম্যাচের ৫১ মিনিটে মোহামেদ সালাহর গোলে ব্যবধান কমায় লিভারপুল। আর এতে ম্যাচ বাঁচানোর স্বপ্ন দেখছিল ইংলিশরা। কিন্তু সে স্বপ্ন একেবারে ফিকে করে দিয়েছেন ওই ভিনিসিয়ুস। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে কর্নারের কাছ থেকে পাওয়া এক থ্রো-ইন থেকে বল পেয়ে যান লুকা মদরিচ, সেখান থেকে বল বাড়ান বক্সে ওঁত পেতে থাকা ভিনিসিয়ুসের দিকে। সেখান থেকে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন ব্রাজিলিয়ান এই তরুণ উইঙ্গার।

পরে ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে এই ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা। আর এতেই চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রাখল রিয়াল মাদ্রিদ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
আপনি কী মনে করেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ সন্তোষজনক?