টেস্টে ভালো করলেই মুশফিক-মুমিনুলদের কোটি টাকা

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:১৪

সাহস ডেস্ক

টেস্টে খেলোয়াড়েরা যেন ভালো খেলতে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হন, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এরই মধ্যে ম্যাচে ফি বাড়িয়েছে। ম্যাচ ফি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতেও বেড়েছে। তবে টেস্টের ম্যাচ ফি বেড়েছে সবচেয়ে বেশি—সাড়ে ৩ লাখ থেকে করা হয়েছে ৬ লাখ টাকা।

গত ১২ জানুয়ারি (রবিবার) পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান ম্যাচ ফি বাড়ানোর কথা জানালেও খেলোয়াড়দের কে কে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে কত টাকার বেতনে থাকছেন, সেটি নিশ্চিত করতে পারেননি। শুধু বলেছিলেন, খেলোয়াড়দের চুক্তির ব্যাপারটি চূড়ান্ত হবে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে।

কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রাখতে এবার ২২ জন ক্রিকেটারের নাম প্রস্তাব করেছেন নির্বাচকেরা। খেলোয়াড়ের সংখ্যাটা অবশ্যই অন্যবারের তুলনায় অনেক বেশি। বিসিবি এবার নতুন এক নিয়ম করতে যাচ্ছে, সে কারণেই এতজন ক্রিকেটার জায়গা পাচ্ছেন কেন্দ্রীয় চুক্তিতে। সংস্করণভেদে ঠিক হবে খেলোয়াড়দের বেতন। ধরা যাক, মুশফিকুর রহিম খেলেন তিন সংস্করণ। মাশরাফি বিন মুর্তজা খেলেন শুধু ওয়ানডে। আগের চুক্তি অনুযায়ী দুজনই ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে বেতন পেতেন ৪ লাখ টাকা। বিসিবি এখানে নিয়মটা বদলাতে চাইছে।

যে খেলোয়াড়েরা সব সংস্করণেই বাংলাদেশ দলে নিয়মিত খেলবেন, তাঁদের বেতন হবে সবচেয়ে বেশি। কে কোন সংস্করণ খেলছেন, সেটির ওপর নির্ভর করবে বেতনের অঙ্ক। ক্যাটাগরি অনুযায়ী বিসিবি সবশেষ বেতন বাড়িয়েছে ২০১৭ সালের এপ্রিলে। গত দুই বছরে বেতন বাড়েনি ক্রিকেটারদের। এবার কি তবে বেতন বাড়ছে খেলোয়াড়দের? বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান বলছেন, ‘ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের দেওয়া প্রস্তাবটা বিসিবির পরিচালন পর্ষদে অনুমোদন হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে এখন যে দুই ধরনের বলে (লাল ও সাদা) খেলবে, সে বেশি বেতন পাবে। এক সংস্করণ খেললে তার বেতন কম হবে। কাল আমরা চূড়ান্ত করব কে কোন ক্যাটাগরি ও কোন কোন সংস্করণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হবে। কার বেতন কত হবে।’ 

গত অক্টোবরে ক্রিকেটাররা যে ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘট দেখেছিলেন, সেটির একটি ছিল ‘জাতীয় দলের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় সংখ্যা অনেক কম। সংখ্যাটা অন্তত ৩০ জন করতে হবে। বেতন বাড়াতে হবে।’ বিসিবি চুক্তিতে ক্রিকেটার সংখ্যা ও বেতন বাড়াচ্ছে, তবে সেটি অন্য উদ্দেশে। টেস্টে ধারাবাহিক বাজে খেলায় গত বছর একটা প্রসঙ্গ বেশ আলোচিত হয়েছে—বাংলাদেশের বেশির ভাগ ক্রিকেটার মন থেকে টেস্ট উপভোগ করেন না বা এই সংস্করণে খুব বেশি আগ্রহী নন।

ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণে খেলোয়াড়েরা যেন আরও বেশি আগ্রহী হন, টেস্টের ম্যাচ ফি করে দেওয়া হয়েছে ৬ লাখ টাকা। টেস্ট খেলা ক্রিকেটারদের বেতনও হবে বেশি। বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন বলছেন, ‘বিশ্বের সব বোর্ডেই প্রায় একই পদ্ধতি, সংস্করণভেদে চুক্তি হয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে। নতুন নিয়মে আশা করি, লাল বলের প্রতি বেশি আগ্রহ তৈরি হবে খেলোয়াড়দের। টেস্ট ভালো খেলতে চাইবে। শুধু সাদা বল খেলে টেস্টের সমান টাকা পাবে, তা তো হতে পারে না। সবাইকে সিস্টেমের মধ্যে আনার চেষ্টা করছি। টেস্টে ভালো করতেই হবে।’

ভবিষ্যতের সফরসূচি (এফটিপি) অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ধরে এ বছর বাংলাদেশ টেস্ট খেলবে অন্তত ১০টি। কোনো খেলোয়াড় যদি ১০ টেস্ট খেলেন, ৬০ লাখ টাকা পাবেন ম্যাচ ফি থেকেই। র‍্যাঙ্কিংয়ের ওপরের দলকে হারাতে পারলে বিসিবি থেকেই বরাদ্দ থাকে বোনাস। আর কেন্দ্রীয় চুক্তির বেতন তো আছেই। শুধু বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেট খেলেই তো বছরে কোটি টাকা আয়ের সুযোগ থাকছে মুশফিক-মুমিনুলদের।

সূত্র: প্রথম আলো

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
আপনি কী মনে করেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ সন্তোষজনক?