তরফদার মো. রুহুল আমিন

সফল ব্যবসায়ী থেকে দুর্দান্ত ফুটবল সংগঠক

প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:২৫

সুদীর্ঘ ব্যবসায়ী জীবন তাঁর। চড়াই উৎরাই দেখেছেন, পার করেছেন জোয়ার-ভাটার খেলা কিন্তু সাহস হারাননি। নিজের কর্মদক্ষতা, সততা আর পরিশ্রম দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দেশের অন্যতম সফল ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে। বলছিলাম সাইফ পাওয়ারটেক এর কর্ণধার তরফদার মোঃ রুহুল আমিন এর কথা।

২৭ বছরের ব্যবসায়ী জীবনের অভিজ্ঞতা থাকলেও তরফদার মোঃ রুহুল আমিন সর্বজনপ্রিয় হয়ে উঠেন হারিয়ে যেতে বসা ফুটবলের দুর্দিনে এগিয়ে এসে। ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব গোল্ডকাপ ফুটবল। চট্টগ্রামে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে পৃষ্ঠপোষক এর দ্বায়িত্ব পালন করে তার মালিকানাধীন সাইফ পাওয়ারটেক। সেই আসরের ব্যাপক সাফল্যের পরেই মূলত তরফদার রুহুল আমিন ব্যবসায়ী থেকে হয়ে উঠেন ক্রীড়াঙ্গনের প্রিয় মানুষ।

সাইফ পাওয়ারটেক চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল টার্মিনাল অপারেটর প্রতিষ্ঠান। এর যাত্রা শুরু হয়েছিলো ২৬ বছর আগে। ১৯৯২ সালে মংলা বন্দরে সার্ভে ইক্যুইপমেন্ট সরবরাহের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করে। চট্টগ্রামে বন্দরে জেনারেটর সরবরাহের মধ্য দিয়ে ২০০২ সালে শুরু করে। এরপর কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে করতে ধীরে ধীরে বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া।

করপোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটির অংশ হিসেবে বন্দর এলাকায় মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তি দেয় সাইফ পাওয়ারটেক। যাতে তারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে। জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে সাইফ পাওয়ারটেক এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মোঃ রুহুল আমিনের।

নিজের বর্ণাঢ্য ব্যবাসায়িক জীবনের মাঝেই যুক্ত হন দেশের একসময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় কিন্তু বর্তমানে রুগ্ন প্রায় ফুটবলে। বিভিন্ন দেশের সেরা ক্লাবগুলোকে নিয়ে আয়োজিত শেখ কামাল ক্লাব কাপ টুর্নামেন্ট প্রথম আসরেই ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয়। আশংকা ছিলো ফুটবল প্রেমীদের যে হয়তো আর হারিয়ে যাবে এই টুর্নামেন্টটিও। কিন্তু ফুটবল প্রেমীদের এই শংকাকে খুশিতে পরিণত করেন তরফদার মো. রুহুল আমিন। শুরু থেকেই সৃজনশীল নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া তরফদার মো. রুহুল আমিনের জন্য শেখ কামাল গোল্ড কাপ ফুটবল ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। মাত্র মাস দুয়েকের পরিকল্পনায় প্রথমবারের মতো শেখ কামাল গোল্ড কাপের সফল আয়োজন সম্ভব করে দেখান তিনি। সাত কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটের আসরে তার সাইফ পাওয়ারটেক দিয়েছে ৬৫ শতাংশ। ২০১৫ সালের পর ২০১৬ সালেও সফলভাবে আয়োজিত হয় শেখ কামাল গোল্ড কাপ।

কিন্তু এই সফলতাতেই তুষ্ট না হয়ে দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় করেন। শেখ কামাল গোল্ড কাপের সফল আয়োজনের পরেই বাংলাদেশের ফুটবলের জনপ্রিয়তা ফেরানোর জন্য নতুন ভাবনা নিয়ে মাঠে নামেন। তিনি দেশের ফুটবলকে জাগাতে নজর দিয়েছেন জেলা ফুটবলের দিকে। তরফদার মো. রুহুল আমিন সব সময়েই বলে আসছেন, ‘শুধু ঢাকা ভিত্তিক রেখে এই দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। ফুটবলকে ছড়িয়ে দিতে হবে দেশব্যাপি। পেশাদার ফুটবলের সময়েও এই দাবী নিয়ে সোচ্চার ছিলেন তিনি’।

গত চার বছরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ফুটবলের পেছনে খরচ করেছেন ১৩০ কোটি টাকা। ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম আবাহনীর ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান হয়ে (বর্তমানে সহ-সভাপতি) ফুটবল সংগঠক হিসেবে যাত্রা, ২০১৫ ও ২০১৭ সালে শেখ কামাল আর্ন্তজাতিক ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপের একক পৃষ্ঠপোষকতা, ২০১৮ সালে বাফুফের আয়োজনে চট্টগ্রামে বিভিন্ন টুর্নামেন্টের স্পন্সরশীপ (বিএসএল, বিপিএল) সহ ঢাকা মহানগরী প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয়, তৃতীয় বিভাগ এবং লিগের ৪৮টি দলকে আর্থিক সহায়তা ছাড়াও কম্পিউটার ও প্রিন্টার দিয়েছেন।

এছাড়া জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে এবং ৬৪ জেলার প্রতিটিতে ৩ লাখ করে অর্থ সাহায্য দিয়েছেন নিয়মিত জেলা ফুটবল মাঠে রাখতে। ফুটবলকে চাঙ্গা করতে গঠন করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন।

তিনি ‘সাইফ স্পোর্টিং’ নামে একটি ফুটবল ক্লাবও গঠন করেছেন যে ক্লাবটি বর্তমানে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলছে। এছাড়া আরও একটি ৩য় বিভাগের দল কিনে নিয়েছেন। মুক্তহস্তে ফুটবলের উন্নয়নের পেছনে অঢেল অর্থ খরচের কারণে খুব দ্রুতই ফুটবল অঙ্গণে প্রাণ-পুরুষ হিসাবে খ্যাতি পেয়েছেন তরফদার রুহুল আমিন।

ঢাকা নগরীর ক্লাবগুলো এবং বিভাগ ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা মনে করছে, দেশীয় ফুটবলের শাসক সংস্থা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের দায়িত্বভার তরফদার রহুল আমিন পেলে আর্থিক দৈণ্যদশা থেকে মুক্তি পাবে দেশের ফুটবল, পাশাপাশি দেশব্যাপী ফুটবলের উত্তরোত্তর উন্নতিও হবে।

২০১৮ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার ফুটবল কমিটির সভাপতি মনোনীত হলে চট্টগ্রামের ক্রীড়া জগত নিয়ে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার হয়। নিজ যোগ্যতায় আর সাংগঠনিক দক্ষতায় তিনি ২০১৯ সালে এসে বাংলাদেশ ফুটবল ক্লাব এ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে দেশের ফুটবল প্রেমীদের চাওয়া ক্রীড়া অন্তঃপ্রাণ এই মানুষটি যাতে দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার হাল ধরেন। ব্যবসা কিংবা ক্রীড়া সংগঠন, যেখানেই হাত দিয়েছেন তরফদার মোঃ রুহুল আমিন সেখানেই ধরা দিয়েছে আকাশচুম্বী সাফল্য।

ক্রমান্বয়ে অবনমনের দিকে ধাবিত হওয়া দেশের ফুটবলে নতুন আশার সঞ্চার হয় কিনা তা সময়ই বলে দেবে। তবে সফল ব্যবসায়ী থেকে দুর্দান্ত ফুটবল সংগঠক হয়ে উঠা তরফদার মো. রুহুল আমিন দেশের ফুটবলে নব জোয়ার আনায় যে অবদান রেখে চলেছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
আপনি কী মনে করেন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ সন্তোষজনক?