x

এইমাত্র

  •  লকডাউনের সময়সীমা ২২-২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়লো
  •  ফোর্বসের তালিকায় ৯ বাংলাদেশি তরুণ
  •  ভাসানচর নিয়ে আল-জাজিরার প্রতিবেদন মিথ্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  •  লকডাউনে থাকছে যেসব বিধিনিষেধ
  •  কাল থেকে সীমিত পরিসরে চলবে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট

সন্ধ্যারতির পর দুর্গাপূজা মণ্ডপ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২০, ১৬:০৫

সাহস ডেস্ক

করোনার বিস্তার রোধে সন্ধ্যারতি বা সন্ধ্যার পর সর্বসাধারণের জন্য দুর্গাপূজার মন্দির/মণ্ডপ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। ফলে সন্ধ্যার পর এবার পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা কিংবা আরতি করা থেকে বিরত থাকতে হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানানো হয়। মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি 'শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২০' সভার আয়োজন করে।

সভায় জানানো হয়, এ বছর দুর্গাপূজা শুরু হবে ২১ অক্টোবর দেবী দুর্গার আগমনের মাধমে। মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ২২ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে। শেষ হবে ২৬ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে। এর মাঝে সপ্তমীর দিনে করোনা মুক্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। এই সাত দিনে সন্ধ্যারতির পর সারা দেশের পূজা মণ্ডপগুলো বন্ধ থাকবে। দেবী দুর্গার ভোগ প্রসাদ ব্যতীত এবার খিচুড়ি বা এই জাতীয় প্রসাদ বিতরণ এবং বিজয়ার শোভাযাত্রা হবে না। তবে প্রতি মণ্ডপ থেকে নিজ নিজ বিসর্জন ঘাটে গিয়ে দেওয়া যাবে।

সন্ধ্যারতি প্রসঙ্গে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন, সন্ধ্যারতি মানে হচ্ছে সন্ধ্যার পর পুরোহিত ধূপ, শঙ্খ, পাখা দিয়ে আরতি দেন। এটি সাধারণত সন্ধ্যা ৬টার দিকে দেওয়া হয়। এটি দিতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট লাগে। এই সন্ধ্যারতি শুরুর পর থেকেই মন্দির বা পূজামণ্ডপে সর্বসাধারণকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মণ্ডপে তখন শুধু মন্দির বা মণ্ডপের কর্মীরা থাকবেন।

সভা থেকে জানানো হয়, সারা দেশে এবার ৩০ হাজার ২১৩টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। আর ঢাকা মহানগরে এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা ২৩২টি, গত বছর যা ছিল ২৩৮।

সভা থেকে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি নয় দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো দুর্গাপূজায় তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা, দুর্গাপূজার পাঁচ দিনে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা, প্রধান সড়কগুলোতে জাতীয় পতাকা ও শারদীয় শুভেচ্ছা বাণী টানানো, পূজামণ্ডপে ও মণ্ডপগামী সব সড়কে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখা, মন্দির ও মণ্ডপমুখী সড়কগুলো মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করা, পুজোর পাঁচ দিন সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পরিবর্তে হিন্দু ফাউন্ডেশন গঠন করা এবং জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা।

সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি, উপদেষ্টা নিমচন্দ্র ভৌমিক প্রমুখ।

পূজার জন্য ২২ নির্দেশনা

১. ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে ও ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে সাত্ত্বিকভাবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুর্গাপূজা করতে হবে। ক) কোনো প্রকার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আরতি প্রতিযোগিতা, পিএ সেট বাজানো যাবে না। খ) পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে গ) আলোকসজ্জা ও মেলার আয়োজন থেকে বিরত থাকুন।

২. মন্দির কর্তৃপক্ষ ও দর্শনার্থী ভক্তদের সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান করতে হবে।

৩. মন্দিরের গেটে সবার জন্য সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ও স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। 

৪. প্রতিটি পূজামণ্ডপে প্রবেশের পূর্বে প্রত্যেক ভক্ত দর্শনার্থীর শারীরিক তাপমাত্রা/জ্বর থার্মাল যন্ত্র দিয়ে মাপার ব্যবস্থা করতে হবে। যাদের তাপমাত্রা ৯৮.৪ ডিগ্রি ফারেনাইটের ঊর্ধ্বে থাকবে তাদের মন্দিরে প্রবেশে নিরুৎসাহিত করুন।

৫. সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি চেয়ারের দূরত্ব ৩ ফুট নিশ্চিত করুন (সামনে–পেছনে উভই দিকেই)।

৬. জনসমাগম পরিহার করার জন্য ভক্তরা ও দর্শনার্থীদের মন্দিরে প্রবেশের পথ ও বের হওয়ার পথ পৃথকভাবে করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৭. মন্দিরের অবস্থান অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যায়ক্রমে অঞ্জলি প্রদানের ব্যবস্থা করুন।

৮. অঞ্জলি প্রদান ও ভক্ত সমাবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে।

৯. প্রতিমা তৈরি থেকে বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

১০. সামর্থ্য অনুযায়ী নিরাপত্তার স্বার্থে পূজামণ্ডপে সিসিটিভি সংযোগের ব্যবস্থা রাখুন।

১১. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নিজেরা নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলুন।

১২. পূজাকালে দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা করুন।

১৩. কারও ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে এরূপ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকুন।

১৪. আজানের সময় ঢাকঢোল বাজানো থেকে বিরত থাকুন। তবে পূজা থাকলে সীমিত আকারে বাজানো যাবে।

১৫. প্রতিমা নিরঞ্জনে শোভাযাত্রা এ বছরের জন্য পরিহার করতে হবে।

১৬. সন্ধ্যারতির পর দর্শনার্থী প্রবেশে নিরুৎসাহিত করতে হবে।

১৭. আতসবাজি ও পটকার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

১৮. ধর্মীয় ভক্তিমূলক সংগীত ব্যতীত অন্য সংগীত বাজানো থেকে বিরত থাকুন।

১৯. যেসব ক্ষেত্রে খোলা জায়গায় অস্থায়ী প্যান্ডেল দুর্গাপূজা করা হবে, সেসব ক্ষেত্রে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি পরিপূর্ণভাবে মেনে পূজা করা যাবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

২০. কোনো প্রকার গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করতে হবে।

২১. অত্যাবশকীয় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯, বা ৯৬১১৩৫৩ নম্বরে যোগাযোগ করুন।

২২. মহাসপ্তমীর দিন দুপুর ১২টা ১ মিনিটে করোনা মুক্তি এবং দেশ জাতি ও বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত