x

এইমাত্র

  •  ব্রাজিলের এক ক্লাবেই করোনা পজিটিভ ১৬ ফুটবলার
  •  করোনায় সারা বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪২ জন
  •  করোনায় বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত ৬৫ লাখের অধিক, সুস্থ হয়েছেন ৩১ লাখেরও বেশী
  •  করোনার তীব্রতা কমে গেছে, দাবি এইমসের
  •  করোনাভাইরাসঃ বাংলাদেশে আরও ৩৭ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৬৯৫ জনের

দুর্নীতির সহনীয় মাত্রা কত?

প্রকাশ : ০৭ মে ২০১৮, ২৩:৩৫

খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে জেলে সাজা ভোগ করছেন। একই মামলায় দণ্ডিত হয়েছে তারেক জিয়াসহ আরও কয়েকজন। এই মামলার রায়ে “দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালন”-এর জন্য আইনগত প্রক্রিয়া কি কোনো প্রভাব ফেলতে পেরেছে? ব্যক্তি কিংবা পরিবার কিংবা সমাজ, রাষ্ট্র কোথাও কি এই রায়ের কোনো প্রভাব পড়েছে? কিংবা দুর্নীতি করলে শাস্তি অবধারিত- বলে কি কেউ মানতে শিখেছেন? কোনোটিই ঘটেনি। কাজেই দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের আইনি প্রক্রিয়া এখানে ব্যর্থ, বরং ঘটেছে তার উল্টোটি।

খালেদা জিয়ার মামলার রায় নিয়ে আমজনতার বক্তব্য এমন যে, “একজন প্রধানমন্ত্রী, যে কিনা তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন, যার স্বামীও দেশের সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তিনি এরকম ২ সোয়া ২ কোটি টাকা লুটপাট করলে কি এমন যায় আসে”। অর্থাৎ আমাদের মাঝে আপাত দৃষ্টিতে ২ সোয়া ২ কোটি টাকা লুটপাট হওয়াটা স্বাভাবিক এবং দুর্নীতির মধ্যে পড়ে না! এর মানে যা দাঁড়ায় তাহলো, দুর্নীতির মাত্রা হিসেবে ২ সোয়া ২ কোটি টাকা পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য এবং খুবই স্বাভাবিক- এই বিষয়টির সামাজিকায়ন ঘটেছে।

প্রশ্ন হলো এমনটি কেন ঘটছে বা ঘটেছে? এ দায় কার? সকল কেন-এর উত্তর সকলেরই জানা। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর কালো টাকা সাদা করা, হাজার হাজার কোটি টাকার শেয়ার বাজার লুট, চিটফান্ড কাণ্ড, ব্যাংক লোপাট হওয়া, ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় রাষ্ট্রের লুকোচুরি এবং দায়িদের সনাক্ত করে শাস্তি না দিয়ে একজন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ঘটনাকে আড়াল করা, উন্নয়ন যজ্ঞের বিবিধ ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা ইত্যাদির আর্থিক পরিমাণগত দিকই দুর্নীতির এই সহনীয় মাত্রার সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে। রাজনীতির ব্যর্থতা এ ক্ষেত্রে দায়ি।

রাজনীতি সমাজ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করে। যে পরিবর্তন সম্পূর্ণভাবেই ইতিবাচক ধারায় হওয়া ও থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে কি ঘটেছে? রাজনীতি দুর্বৃত্তায়িত হয়েছে; লুটপাট, দখল, আইনের শাসনহীনতা, সাংবিধানিক মূলনীতির নিয়ন্ত্রিত চর্চা সব মিলিয়ে নৈরাজ্য রাজনীতির প্রধান অনুষঙ্গ। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার কার্যকর উপায় অনুসন্ধান ও অনুসরণ করা প্রয়োজন। তা না হলে, দুর্নীতির বিদ্যমান ধারণাগত প্রেক্ষাপট থেকে সরে আসার সুযোগ কখনও’ই তৈরি হবে না।

রাজনীতির ময়দানে ভালোর বিকল্প হিসেবে “মন্দের ভালো” তত্ত্বের সামাজিকায়ন আমরা ঘটিয়েছি- গ্রহণ করেছি আগামির বন্ধ্যাত্ব। সেখানে দুর্নীতির সহনীয়মাত্রা তত্ত্বের অনুসন্ধান ও অনুসরণ তত্ত্ব আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টির প্রবণতাকে কখনওই ভাঙতে দিবেনা। এজন্য “দুর্নীতির সহনীয়মাত্রা” তত্ত্বকে রুখে দিতে হবে।

ভুলে গেলে চলবে না, রাজনীতির ব্যর্থতা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র ব্যর্থতার জন্ম দেয়। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে এমনটি ঘটলে মুক্তিযুদ্ধ আর আত্মত্যাগ পরাজিত হবে। আমরা এমনটি হতে দিতে পারি কি? পারি না।

জীবনানন্দ জয়ন্ত

লেখক, আইনজীবী

সংগঠক- গণজাগরণ মঞ্চ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত