x

এইমাত্র

  •  গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় নতুন সংক্রমিত ২৬৫৪ জন, মৃত ৩৩ জন
  •  লেবাননে ভয়াবহ বিস্ফোরণ; নিহত ৭৮ এবং আহত ৪ হাজারের অধিক
  •  মহামারি করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ৭ লাখ ৫ হাজার, আক্রান্ত ১ কোটি ৮৭ লাখেরও বেশি
  •  লেবানন বিস্ফোরণে নিহত ৩ বাংলাদেশী, আহত ৭৮

চিকিৎসকদের খাবার খরচের প্রতিবেদনটি বানোয়াট: ঢাকা মেডিকেল

প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২০, ১৪:২৪

সাহস ডেস্ক

‘চিকিৎসকদের এক মাসের খাবার খরচবাবদ ২০ কোটি টাকা’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা ও বানোয়াট বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন।

বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, চিকিৎসক, নার্স, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী এবং আনসার সদস্যসহ মোট ৩,৬৮৮ জন গত দুই মাসে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিলেন। ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী তারা এক সপ্তাহ করোনা ওয়ার্ডে ডিউটি করার পর পরবর্তী তিন সপ্তাহ আবাসিক হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। এ হিসাবে প্রত্যেককে এক মাস করে আবাসিক হোটেলে অবস্থান করতে হয়।

নাসির উদ্দিন বলেন, গত দুই মাসে আবাসিক হোটেল ভাড়া, দৈনিক তিন বেলার খাবার এবং যাতায়াত ভাতাবাবদ সম্ভাব্য ব্যয় ২৬ কোটি টাকা হিসাব ধরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমে চিকিৎসকদের এক মাসের খাবার খরচবাবদ ২০ কোটি টাকা শীর্ষ প্রতিবেদন সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

হাসপাতালের পরিচালক বলেন, এক মাসের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ২ হাজার ২৭৬ জন চিকিৎসক-নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মীর প্রয়োজন হয়। গত ২ মার্চ থেকে অদ্যাবধি বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে নবম সপ্তাহ এবং ডিএমসিএইচ-২ এ সপ্তম সপ্তাহে ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী ১ হাজার ২১৮ জন চিকিৎসক, ১ হাজার ৫৬৭ জন নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ৫০, ফার্মাসিস্ট ১৬ জন, কর্মচারী ৪৪৩ জন এবং আনসার সদস্য ৩৫৪ জনসহ ৩ হাজার ৬৮৮ জন দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি জানান, ২ হাজার ২৭৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীর একমাস হোটেলে থাকা ও খাবার খরচবাবদ ১১ কোটি ৮৬ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকা এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ ১৩ কোটি ৬৪ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৭ টাকা খরচ হয়। এ ছাড়া সমসংখ্যক জনগণের যাতায়াতের জন্য ১২ আসনের ১০টি এসি মাইক্রোবাস, একটি ১৫ আসনের এসি মাইক্রোবাস, একটি ২৬ আসনের টুরিস্ট কোচ, ৪৫ আসনের নন এসি বাস ব্যবহৃত হয়েছে।

পরিচালক বলেন, চিকিৎসক-নার্স কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আনা-নেয়ার জন্য রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চারটি বিআরটিসি বাস ভাড়া করা হয়। এতে যানবাহন পরিচালনা ব্যয় ৪৬ লাখ ৯৮ লাখ ৮৭০ টাকা হিসেবে দু'মাসের পরিবহন ব্যয়বাবদ প্রায় এক কোটি টাকার মতো খরচ হয়। সে হিসেবে চিকিৎসক-নার্স ও নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের দু'মাসের হোটেলে অবস্থান করে থাকা খাওয়া ও পরিবহন খরচ বাবদ প্রায় ২৬ কোটি টাকা সম্ভাব্য খরচ হয়।

তিনি বলেন, সেই হিসাবে দুই মাসের খরচ বাবদ ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়। গত ২৩ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। মোট বরাদ্দকৃত টাকার মধ্যে আবাসিক হোটেল বিল বাবদ ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, খাবার বাবদ ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পরিবহন খরচ বাবদ ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। এখনো পর্যন্ত বরাদ্দকৃত ২০ কোটি টাকা থেকে বিল বাবদ কোনো টাকা পরিশোধ করা হয়নি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত