x

এইমাত্র

  •  বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সারাদেশে আলোকসজ্জা বন্ধ
  •  দলীয় প্রধানের পদ ছাড়লেন বরিস জনসন, ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রিত্বও

তীক্ষ্ণ বিদ্রুপের কমেডিয়ান চার্লি চ্যাপলিন

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২২, ১৭:৫৪

সাহস ডেস্ক

What do you want a meaning for? Life is a desire, not a meaning.- Charlie Chaplin

স্যার চার্লস স্পেনসার চ্যাপলিন জুনিয়র। বিশ্ববাসীর চার্লি চ্যাপলিন। চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব চার্লি চ্যাপলিন। খ্যাতি কুড়িয়েছেন অভিনেতা, পরিচালক ও সুরকারের দায়িত্বে। নির্বাক চলচ্চিত্র দিয়েই হাসিয়েছেন বিশ্ববাসীকে। তীক্ষ্ণ বিদ্রুপ ছুঁড়ে নিপীড়িতের সংকট ও অসঙ্গতির কথা অনর্গল বলে গিয়েছেন ঠোঁট না খুলেই। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা।

আজ শনিবার (১৬ এপ্রিল) এই প্রথিতযশা প্রতিভাবান অভিনেতার জন্মদিন। হলিউড সিনেমার শুরুর সময় থেকে মধ্যকাল পর্যন্ত অভিনয় ও পরিচালনা দিয়ে ছুঁয়েছেন সাফল্যের চূড়া। পর্দায় শ্রেষ্ঠতম মূকাভিনেতা ও কৌতুকাভিনেতাদের একজন বলেও বিবেচিত তিনি বিশ্ব সংস্কৃতি পাড়ায়। চলচ্চিত্র শিল্প জগতে অনস্বীকার্য প্রভাব দাপটের সঙ্গে ধরে রেখেছেন চ্যাপলিন।

বাবা চার্লস চ্যাপলিন আর মা হানা চ্যাপলিন। দুজনেই কাজ করতেন বিনোদন দুনিয়ায়। স্বাভাবিকভাবেই শৈল্পিক বিষয়গুলো কানায় কানায় পূর্ণ ছিল চার্লির ভেতরেও। পরনে জরাজীর্ণ কোট-টাই, ঢিলেঢালা প্যান্ট, মাথায় কালো টুপি, হাতে ছড়ি আর নাকের নিচে নকল ছোট্ট গোঁফ- বাজ্যিকভাবে এই সিনেমার চ্যাপলিন। ঢাউস সাইজের জুতো পরে হেঁটে বেড়াচ্ছেন উল্টো করে। এই দেখে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার যোগাড় দর্শকদের।

নির্বাক অভিনয় দিয়ে দর্শকদের হাসিয়েছেন। সকলের প্রিয় মুকাভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন। কিন্তু তার হাসি আর দর্শকদের হাসি বরাবরই ছিলো ভিন্ন। গোফ ওয়ালা ভাড় মত লোকটির এই হাসি আদোতে দর্শকদের হাসির কারণ হলে মন খুলে হাসতে পারেন নি কেউ। চার্লি কমেডি মিজাজ নিয়ে যখন দৌড়ে যাচ্ছেন দর্শক সারি থেকে চিৎকার উঠে আসে 'গো চার্লি, গো'। শ্রমিক শোষণের ইতিহাস আর নির্যাতন নিপীড়ণের দিনগুলিকে এতটা রম্য করে তুলে বিশ্বব্যপী শ্রমিকদের জাগরণে বড় ভূমিকা পালন করেছেন এই মানুষটি। অত্যন্ত দারিদ্র্য ও কষ্টের মাঝে শৈশব পার করেছেন বলেই হয়তো তিনি খুব ভালো করেই উপলব্ধি করতেন, আনন্দ মানুষের জীবনে কতটা প্রয়োজন।

নয় বছর বয়সের আগেই বাবার অনুপস্থিতিতে পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে নামতে হইয়েছে রোজগারের খোঁজে। ভালো ছিলো না মোটে মা ভাগ্যও। ১৪ বছর বয়সে মা কে পাগলাগারদে যেতে দেখার মত কষ্টকর দিনগুলিও দেখতে হয়েছে তাকে। শিশুশিল্পী হিসেবে শৈশব থেকেই সফর করেন ইংল্যান্ডের বিভিন্ন মঞ্চে। পরে মঞ্চাভিনেতা ও কৌতুকাভিনেতা হিসেবে অভিনয় শুরু করেন। ১৯ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্র সফরেযান স্বনামধন্য ফ্রেড কার্নো কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে। সেখানে যুক্ত হন হলিউড চলচ্চিত্র শিল্পে। ১৯১৪ সালে কিস্টোন স্টুডিওজের হয়ে বড় পর্দায় অভিনয় শুরু করেন। অচিরেই তিনি তার নিজের সৃষ্ট ভবঘুরে ‘দ্য ট্রাম্প’ চরিত্রের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন এবং তার অনেক ভক্তকূল গড়ে ওঠে। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, পর্তুগালে ‘শার্লট’ নামে পরিচিত চ্যাপলিনের ট্রাম্প ভবঘুরে হলেও ব্রিটিশ ভদ্রজনোচিত আদব-কায়দায় সুসংস্কৃত এবং সম্মানবোধে অটুট। শার্লটের পরনে চাপা কোট, সাইজে বড় প্যান্ট, বড় জুতো, মাথায় বাউলার হ্যাট, হাতে ছড়ি আর অদ্বিতীয়তম টুথব্রাশ গোঁফ। চ্যাপলিন শুরুর দিক থেকেই তার চলচ্চিত্রগুলো পরিচালনা করতেন এবং পরবর্তীতে এসানে, মিউচুয়াল ও ফার্স্ট ন্যাশনাল করপোরেশনের হয়েও চলচ্চিত্র পরিচালনা চালিয়ে যান। ১৯১৮ সালের মধ্যে তিনি বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের মর্যাদা লাভ করেন।

চার্লি চ্যাপলিনের ৭৫ বছরের দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনটি বাদে বাকি সব চলচ্চিত্রই ছিল নির্বাক। চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম কথা বলেন ১৯৪০ সালে, দ্য গ্রেট ডিকটেটর চলচ্চিত্রে। চার্লি চ্যাপলিন একাধারে অভিনেতা, গায়ক, চিত্রনাট্যকার, গল্প লেখক, পরিচালক, শিল্প নির্দেশক, সঙ্গীত পরিচালকসহ আরো বিভিন্ন বিশেষণে বিশেষিত। এই মানুষটি একটি দুর্বিষহ শৈশব পার করে এলেও জীবনের কাছে কখনো হার মানেননি।

১৮৮৯ সালের ১৬ এপ্রিল ইংল্যান্ডের দক্ষিণ লন্ডনের ওয়েলওর্থের বার্লো স্ট্রিটে জন্ম এই প্রতিভাধর অভিনেতার। চার্লি চ্যাপলিন প্রায় নিঃসঙ্গ অবস্থায় সুইজারল্যান্ডে মারা যান ১৯৭৭ সালের ২৫ ডিসেম্বরে। ১৯৭৮ সালের ৩ মার্চ সুইজারল্যান্ডের করসিয়ার-সার-ভেভে গোরস্তান থেকে চুরি হয়ে যায় চার্লি চ্যাপলিনের মৃতদেহ। অবশেষে ১৮ মার্চ পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে। আবার সমাহিত করা হয় শতাব্দীর সেরা অভিনেতা চ্যাপলিনকে। কোটি প্রাণের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন সেখানে শুয়েই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত