x

এইমাত্র

  •  এসএসসি-সমমানে পাসের হার ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ
  •  করোনায় সারা বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ৩ লাখ ৭১ হাজার ২৩ জন
  •  করোনায় বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত ৬১ লাখের অধিক, সুস্থ হয়েছেন ২৭ লাখেরও বেশী
  •  করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা নয়
  •  করোনাভাইরাসঃ বাংলাদেশে রেকর্ড ৪০ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৫৪৫

উদ্যোক্তাদের জন্য প্রেরণা হলেন আরজিনা

প্রকাশ : ১০ মে ২০১৮, ১২:৪৮

মুরাদ চৌধুরী

নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের নাম গুড়নই। গ্রামটি মৎস্য এলাকা নামে পরিচিত। এই গ্রামেরই দিনমজুর পরিবারে জন্ম নেন আরজিনা আক্তার। আরজিনার বাড়িতে প্রবেশ করলেই চোখ জুড়াবে নানা নকশার পোশাক তৈরির দৃশ্য দেখে। কেউ তৈরি করছে শেরওয়ানি, কেউ বা তৈরি করছে পাঞ্জাবি, কেউ তৈরি করছে শাড়ি।

৬ বোন ও ১ ভাইসহ ৮ জনের পরিবারে একমাত্র আশা ভরসা আরজিনা। আরজিনার পরিবারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হতো দিনমজুর বাবা আজিজ সরদার ও মা তনুজা বেগমকে। আরজিনা পরিবারের বড় মেয়ে তাই দায়ভারটা তার উপরেই পড়ে বেশি।

আরজিনার নানার বাড়ি ভারতের হাওড়া জেলায়। মাঝে মধ্যে মায়ের সঙ্গে নানা বাড়ি যেতো আরজিনা। নানার বাড়ির অনেকই হস্ত শিল্পের কাজ করতো। পরিবারের কথা ভেবে আরজিনা নানার বাড়িতে থেকে ৫ বছর হস্ত শিল্পের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। আরজিনা তার বোনদেরও এই প্রশিক্ষণ নিতে উৎসাহিত করেন।

আরজিনা নিজের বাড়িতে গড়ে তুলেছেন ছোটখাটো ব্লক, বুটিক ও কাটপিসের পোশাক তৈরির কারখানা। এরপর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। আরজিনা আর্থিক ভাবে যেমন স্বাবলম্বী হয়েছেন তেমনি হয়েছেন তার কারখানায় কাজ করা আরও ৩০ গৃহবধূ, এলাকার স্কুল ও কলেজে পড়া শিক্ষার্থীরা। আর্জিনার কারখানায় তৈরি হওয়া পোশাকগুলো বিক্রি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। আরজিনার কারখানায় প্রায় ৩০ জন বেকার গ্রামীণ গৃহবধূ ও গ্রামের শিক্ষিত মেয়েদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

আরজিনা বলেন, পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতেই হস্ত শিল্পের কাজ শিখেছি। বর্তমান সময়ে এই শিল্পগুলো বেশির ভাগই শহরে গড়ে উঠছে। কিন্তু আমার ইচ্ছে গ্রামের বেকার মেয়েদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। সব খরচ বাদ দিয়ে এখন মাসিক আয় প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা।

অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের আহসানগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মো: মনিরুজ্জামান খান বলেন, আরজিনা আমাদের সমাজে নারীদের এগিয়ে যাবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আমি নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে আর্জিনার হস্ত শিল্প কারখানা পরিদর্শন করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের অধিভুক্ত সরকারি ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে নানা সুবিধার যে ব্যবস্থা করেছে তা আরজিনাকে দিবো। আরজিনাকে আরো এগিয়ে নিতে আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মোখলেছুর রহমান বলেন, দেশে আরজিনার মতো শত শত মেধা লুকিয়ে আছে। আমাদের উচিত এই সব মেধাকে খুঁজে বের করে আনা। আমি নিজে গিয়ে আরজিনার হস্ত শিল্প কারখানা ও কাজগুলো দেখেছি। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করবো।

সাহস২৪.কম/রিয়াজ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত