প্রতিমায় রং-তুলির শেষ আঁচড়ে ব্যস্ত শিল্পীরা

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৯:৫০

শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ঘরে ঘরে দেবীদুর্গার আগমনী বার্তা। প্রতিমা তৈরি শেষে রং-তুলির শেষ আঁচড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের মৃৎশিল্পীরা। আগামী ১ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে শুরু হয়ে ৫ অক্টোবর দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব। এবারে দুর্গা মায়ের আগমন ঘটবে গজে আর যাবেন দোলায় চড়ে-সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলায় ভরে যাবে দেশ এমন আশায় অন্যরকম আনন্দে ভাসছেন হিন্দু সম্প্রদায়।

পূজার মণ্ডপগুলোতে আলোকসজ্জাসহ থাকছে নানা ধরনের আয়োজন। রঙ্গিন আলো ঢাকের বাদ্যর সাথে চন্দ তালে পূজাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্যস্ততা বেড়েছে লাইটিং এবং সাউন্ড ব্যাবসায়ীদের মধ্যেও। মহালয়া থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত শারদীয় উৎসবের সব ক্ষেত্রেই থাকছে আইন শৃঙ্খালা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা।

দেবীদুর্গা অসুর দমনের শক্তি নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করবেন। দুষ্টের দমন আর সৃষ্টের পালনের জন্যই ১০ হাতে দেবী দুর্গা স্বর্গ থেকে মর্ত্যলোকে আগমন করেছিলেন। এরই ধারাহিকতায় হিন্দু সম্প‍্রদায়ের মানুষ প্রতি বছর শারদীয় উৎসব হিসেবে দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছেন।

এ বছর লক্ষ্মীপুর জেলায় ৭৮টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৩৩টি, রামগঞ্জ উপজেলায় ১৮টি, রামগতি উপজেলায় ১২টি, রায়পুর উপজেলায় ১২টি এবং কমলনগর উপজেলায় ৩টি পূজা মণ্ডপ রয়েছে।

এদিকে মৃৎশিল্পীদের পাশাপাশি পূজা মণ্ডপকে আর্কশনীয় করে তুলতে রাতভর বিভিন্ন থিম সহ সাজসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে লাইটিং সাউন্ড এবং ইভেন্ট ব্যবসায়ীরা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গাপূজা ঘিরে এমন ব্যস্ততা তাদের।

লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের শাঁখারী পাড়া শ্রী শ্রী রক্ষা কালি মন্দির পূজা মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করছেন গোপাল পাল জানান, বংশ পরম্পরায় এ পেশায় জড়িত আছেন তারা। এ বছর ১২টি প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। অধিকাংশ পূজামণ্ডপের প্রতিমা তৈরির প্রধান কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রতিমা রংয়ের কাজ শুরু করেছেন। একটি প্রতিমা তৈরিতে ১৫-২০ দিন সময় লাগে। প্রতিদিন আনুমানিক ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা কাজ করেন তারা। প্রকারভেদে প্রতিটি প্রতিমা তৈরিতে তারা মজুরি হিসেবে ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেন।

শ্রী শ্রী শ্যামসুন্দর জিউর আখড়ায় আসা মৃৎশিল্পী মতিলাল আক্ষেপ করে জানান, এক সেট প্রতিমা তৈরি করতে তাদের সময় লাগে এক থেকে দুই সপ্তাহ। প্রতিমা তৈরির কাঁচামাল কিংবা রসদ আগে যে দামে কেনা হতো এখন তা দ্বিগুণ দামে কিনতে হয়। অথচ প্রতিমা তৈরির মজুরি আগের দামেই নিতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ লক্ষ্মীপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক স্বপন দেবনাথ বলেন, মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ইতোমধ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা বিতরণ করা হয়েছে। জেলায় বরাবরই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন হয়। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটবে না।

লক্ষ্মীপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক স্বপন চন্দ্র নাথ বলেন, জেলার ৭৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রতিটি মন্দিরের প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। প্রশাসনের পাশাপাশি আমরা কেন্দ্র ঘোষিত ২১দফা নির্দেশনা প্রতিটি পূজা মণ্ডপে পৌঁছে দিয়েছি।

জেলা লাইটিং সাউন্ড এন্ড ইভেন্ট ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি রুমন সাহা বলেন, ইতিমধ্যে লক্ষ্মীপুরের ৭৮টি মণ্ডপের প্রায় ৬০টি মণ্ডপের কাজ করছে আমাদের স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা। গত বছর কয়েকটি মণ্ডপে হামলার ঘটনায় আমদের কিছু ব্যাবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মালামাল নষ্ট হয়েছে। এইবার যাতে তেমন কোন ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমরা প্রশাসনের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য অনুরোধ করছি।

লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ বলেন, দুর্গোৎসব সফল করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন আয়োজকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। পূজায় নিরাপত্তায় প্রতিটি উপজেলায় ইউনিয়নভিত্তিক ও মণ্ডপভিত্তিক টহল টিম গঠন করা হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান এসপি।

গত কয়েকবছর একেবারে মনখুলে পুজোর আয়োজন করা যায়নি। মানুষ আনন্দে মেতেছেন ঠিকই, কিন্তু তার পরেও ভয় ছিল করোনা সংক্রমণের। এবারেও করোনা সংক্রমণ হচ্ছে। কিন্তু বেশির ভাগেরই টিকার দুটি ডোজ সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় সংক্রমণের ভয় কিছুটা কমেছে। তাই উৎসবের ধুম পড়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়ি বাড়ি। পূজার অন্যতম অনুষঙ্গ নারকেলের নাড়ু তৈরির ব্যস্ততা বেড়েছে। পরিবার-পরিজনের জন্য কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ঘরে বাইরে পূজাকে ঘিরে চলছে ব্যস্ততা। জামা-কাপড় তৈরি, কেনাকাটায় সরগরম শহরের বিপণিবিতানগুলো। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে চারপাশে চলছে এখন উৎসবের আমেজ।

সাহস২৪/রকি/মনির/রাজ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। আপনিও কি তাই মনে করেন?