হাসপাতাল থেকে জোরপূর্বক হাজতে: ৪ এসআই বরখাস্ত

প্রকাশ : ১১ মে ২০২২, ১৮:১৩

মশিউর রহমান, জামালপুর

জামলাপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলায় আহত এক ভিক্ষুক পরিবারকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতাল থেকে আটক করে জোরপূর্বক জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের চারজন এসআইকে বরখাস্ত ও দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মে) রাতে ওই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয়া হয় বলে বুধবার (১১ মে) সকালে জামালপুরের পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এমন অমানবিক ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং দুজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়াও আমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে যাদের নাম আসবে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন-সরিষাবাড়ী থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আলতাব হোসেন, সাইফুল ইসলাম, ওয়াজেদ আলী, মুনতাজ আলী। এছাড়া পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার হওয়া দুই পুলিশ কনস্টেবল মোজাম্মেল হক ও সাথী আক্তার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী পৌরসভার বাউসি বাজার এলাকার মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে ভিক্ষুক আব্দুল জলিল (৬৪) তার ২০ শতক জমির বসতভিটায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি মুজিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি ওই জমিটি তার নিজের বলে দাবি করেন। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় আদালতে মামলা হলে আদালত আব্দুল জলিলের পক্ষে রায় দেয়।

সোমবার (০৯ মে) সকালে আদালতের আদেশ অমান্য করে মুজিবুর রহমান তার লোকজনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আব্দুল জলিলের পরিবারের ওপর হামলা করে। এতে আব্দুল জলিল (৬৪), তার স্ত্রী লাইলী বেগম (৫০) ও তার তিন ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (৩০), ওয়ায়েজ করোনি (২৫) ও হামদাদুল হক(১৬) গুরুতর আহত হন। পরে তাদের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

হামলার পর মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে চিকিৎসাধীন চার জনসহ ১৫ জনকে আসামি করে সরিষাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর মঙ্গলবার (১০ মে) পুলিশ হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এজাহারভুক্ত আহত চার আসামিকে আটক করে হাসপাতালের শয্যা থেকে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে আসে এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়।

আব্দুল জলিলের স্বজনেরা অভিযোগ করে বলেন, সোমবার (০৯ মে) রাতে আব্দুল জলিল থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ উল্টো আব্দুল জলিলকেই থানায় আটকে রাখে। পরে সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে। রাতে উল্টো ওই ভিক্ষুক পরিবারের উপর মামলা দেওয়া হয়।

সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর রকিবুল হক বলেন, মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে সোমবার (০৯ মে) রাতে আব্দুল জলিলসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এরপর হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়ায় পরই তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, আহতদের চিকিৎসা চলাকালীনই পুলিশ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে। চিকিৎসাধীন আসামিদের যেভাবে আটক করা হয়েছে তা অমানবিক।

সাহস২৪.কম/এএম/এসএ.

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। আপনিও কি তাই মনে করেন?