রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনায় যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১৯:০০

সাহস ডেস্ক

হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক তরুণ ফেসবুকে একটি পোষ্টে 'ইসলাম বিদ্বেষী' কমেন্টকে কেন্দ্র করে গতকাল রবিবার পীরগঞ্জে হিন্দুপল্লিতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে এসব হামলা করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে পুলিশ ওই তরুণের বাড়িতে পাহারা বসায়। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকে গ্রামটি ঘিরে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয়। রাত নয়টায় তারা অতর্কিতে হামলা চালায়। এ হামলায় ১৮টির মতো ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাবের সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা যতগুলো তথ্য উদ্ধার করেছি, সবগুলোতে দেখেছি, এগুলোর পেছনে কয়েকজন ব্যক্তি এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা, একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, গভর্নমেন্টকে একটা বেকায়দায় ফেলার জন্য এই সমস্ত প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, রামু, ভোলা ও নাসিরনগরে এ ধরনের ঘটনা দেখেছি। এগুলো হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার অপপ্রচারের মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে।

তিনি বলেন, রংপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় এর মধ্যেই সেখানে ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরো কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ চেষ্টা করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে অন্যান্য ঘটনায়ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। নোয়াখালী, কুমিল্লা, হাজীগঞ্জে যা ঘটেছে, এগুলো আমরা এক সূত্র হিসেবে ধরে নিয়েছি। এগুলোর পেছনে মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তি রয়েছে। কতগুলো ভিডিও, টেলিফোনের বার্তা আমরা শুনছি। আমরা আরেকটু কনফার্ম হবো। আমরা একটু সময় চাচ্ছি, এর মধ্যেই আমরা এগুলো বের করবো। এরই মধ্যে আমরা সন্দেহজনক লোকদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করেছি। আমরা সুনিশ্চিত, কুমিল্লার ঘটনাটি একটি সাজানো ঘটনা।

ওই গ্রামে কোনো জীবনহানি হয়নি। তবে সম্পদহানি হয়েছে, বাড়িঘর পুড়িয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের বাড়িঘর নির্মাণে সবরকম সহযোগিতা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।

১৩ই অক্টোবর দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন কুমিল্লা শহরে একটি পূজা মণ্ডপে কোরআন পাওয়ার পর সেখানে পূজা মণ্ডপে হামলা হয়। এরপর টানা তিনদিন নোয়াখালী, ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুর, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটে। পীরগঞ্জের আগে সর্বশেষ শনিবার ফেনীতে সংঘর্ষ হয়েছে। তিনদিনে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

কুমিল্লা শহরের পূজা মণ্ডপে সেই হামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কুমিল্লার ঘটনার বিষয়ে আমরা খুব শীঘ্রই বিস্তারিত জানাবো, এটার (রহস্য উদ্ধারের) কাছাকাছি আছি। আমি এইটুকু বলতে পারি, এটা উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য, একটা অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য, আমাদের সম্প্রীতির ভিতর ভাঙন সৃষ্টি করার জন্য কৌশল ছিল।

তিনি বলেন, সেই কৌশলে অনেকে না বুঝেই অনেক কিছু করে ফেলেছেন। আপনারা দেখেছেন, আমাদের হাজীগঞ্জে পুলিশ বাধ্য হয়ে ফায়ার ওপেন করেছে। সেখানে চারজন নিরীহ প্রাণ তাদের জীবন বিসর্জন দিয়েছে।

তিনি বলেন, নোয়াখালীতে যে জিনিসটা দেখেছি, জুম্মার নামাজ হয়ে গেছে, মুসল্লিরা চলে গেছেন। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী যখন খাওয়ার জন্য বসছিল, সেই সময় কয়েকটি জায়গা থেকে টিনএজারদের নিয়ে এসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

এর পরেও ফেনী, কিশোরগঞ্জে, চট্টগ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। এসব হামলায় অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।

এদিকে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তিনদিনে ৭০টি পূজামণ্ডপে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

দেশের বিভিন্ন জেলায় হামলার ঘটনার জের ধরে এর মধ্যেই ১০টির বেশি মামলা হয়েছে। সেসব মামলায় কয়েক জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা কয়েক হাজার ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে।

সোমবার একটি প্রজ্ঞাপনে রংপুর, ফেনীর এসপিদের বদলি করা হয়। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এই বদলির সঙ্গে এসব ঘটনার কোন যোগসূত্র নেই। এটি একটি রুটিন ওয়ার্ক।

সাহস২৪.কম/এসকে.

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। আপনিও কি তাই মনে করেন?