x

এইমাত্র

  •  লকডাউনের সময়সীমা ২২-২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়লো
  •  ফোর্বসের তালিকায় ৯ বাংলাদেশি তরুণ
  •  ভাসানচর নিয়ে আল-জাজিরার প্রতিবেদন মিথ্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  •  লকডাউনে থাকছে যেসব বিধিনিষেধ
  •  কাল থেকে সীমিত পরিসরে চলবে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট

গোয়ালপাড়া গণহত্যা চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২০, ১৮:০৮

সাহস ডেস্ক

গণহত্যা প্রতিদিন শিরনামে সাহসে প্রতিদিন ১৯৭১ সালে সংগঠিত একটি করে গণহত্যা সম্পর্কে লেখা প্রকাশিত হবে। স্বাধীনতার পঞ্চাশতম বার্ষিকী উপলক্ষে আমাদের এই প্রয়াস চলবে বছরব্যাপী। 

মেরিন একাডেমীর দারোয়ান জ্ঞান আলীকে সাথে নিয়ে ২০ মে পাকিস্তানি সেনারা ঢুকে পড়লো বন্দর গ্রামে। তখন রাত প্রায় ৪ টা। প্রথমেই তাদের সামনে পড়লো মহালখা বাজারের চা দোকানী চুনিলাল সিংহ। তার কাছে পাকিস্তানি ক্যাপ্টেন জানতে চায় , বাদশা মিয়ার বাড়ি কোনটি ? চুনিলালের উত্তর দেন , তিনি চেনেন না। এমন সময় আরেক দোকানি যতীন্দ্র গুপ্তও দোকান খুলে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। তাকেও ধরে বাদশা মিয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তারও উত্তর চিনি না। দু’জনকে সাথে নিয়ে পাকিস্তানি সেনারা পথপদর্শক জ্ঞান আলীর পেছন পেছন বাদশা মিয়ার বাড়ির দিকে অগ্রসর হয়। 

পাকিস্তানি সেনারা যখন বাদশা মিয়ার বাড়ির সামনে পৌছে যাচ্ছে এমন অবস্থায় চুনিলাল ও যতীন্দ্র আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। কারণ তারা একটু আগেই বলেছে বাদশা মিয়াকে চেনে না। অথচ বাদশা মিয়া তাদের চিরচেনা লোক। যদি বাদশা মিয়াকে খুঁজে পাওয়া যায় তবে তাদের রক্ষা নেই। হতবিহ্বল চুনিলাল ক্যাপ্টেনকে উদ্দেশ্য করে বলেন , স্যার আমি এই বাড়ির বাদশা মিয়াকে চিনি। উত্তেজিত ক্যাপ্টেন সাথে সাথে চুনিলালের পেটে বেয়নেট ঢুকিয়ে নাড়িভুড়ি বের করে দেয়। পাকিস্তানি সেনারা পেয়ে গেল বাদশা মিয়াকে এবং একই সাথে গোয়ালপাড়া থেকে ধৃত করল আরো ৩৪ জনকে। সকলকে জড়ো করল বাদশা মিয়ার বাড়ির সামনে। ক্যাপ্টেনের হাতে থাকা তালিকা পাঠ করলে ধৃত ২১ জনের নাম মিলে যায়। ধৃত অন্যরা হলো হালিশহর ও পতেঙ্গার, তারা এই গ্রামে আশ্রিত ছিল। 

একই কায়দায় গুলি ও বেয়নেটে একে একে হত্যা করা হয় প্রত্যেককে। 

তথ্যসূত্র : গণহত্যা-বধ্যভূমি ও গণকবর জরিপ চট্টগ্রাম জেলা
লেখা : ডঃ চৌধুরী শহীদ কাদের

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত