x

এইমাত্র

  •  লন্ড‌নে নিজ বাসা থেকে অর্থমন্ত্রীর জামাতার মরদেহ উদ্ধার
  •  নুরের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে শাহবাগ থানায় মামলা
  •  হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীরা দ্রুত মারা যাচ্ছেন: আইইডিসিআর
  •  জ্বর আসেনি, ভালো আছেন খালেদা জিয়া: চিকিৎসক
  •  লকডাউনের মেয়াদ আরও ৭ দিন বাড়তে পারে

ক্যাকটাসের বাণিজ্যিক চাষাবাদ

প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২১, ১৯:৩২

সাহস ডেস্ক
আলোকচিত্র :আবুল বাশার শিবলী

যতই কাঁটা থাকুক না কেন, ক্যাকটাসের প্রতি আকর্ষণ  কিন্তু সকলেরই আছে। আর ক্যাকটাসে রোজ পানি দেওয়ার ঝক্কিও খুব একটা থাকে না। অল্প জলেই সে তুষ্ট। ফলে বাড়ির ভিতরে বা বাইরে ক্যাকটাস রাখাই যায়। শুষ্ক (এরিড) অঞ্চলে, বিশেষত মরুভূমিতে সাকিউলেন্টস জন্মায়।  একটি ক্যাকটাস গাছ ৫০ টাকা থেকে লাখ টাকায় বিক্রি হয়। খরচ হয় মাত্র ১৫ থেকে ৫০০ টাকা। ক্যাকটাস চাষ সহজ, খরচ কম, লাভ বেশি। যে কেউ চাষ করে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন। ক্যাকটাস গাছের চাহিদা আছে। ইতোমধ্যে অনেকেই ক্যাকটাস চাষ করে বেকারত্ব দূর করতে পেরেছেন। অন্য যে কোনো পেশার পাশাপাশি বাসার ছাদে, বারান্দায়, বাড়ির আঙিনায়, ঘরের ভেতর ক্যাকটাস চাষ করতে পারেন। ক্যাকটাস খুব কষ্টসহিষ্ণু বলে তেমন পরিচর্যার দরকার নেই। 

ক্যাকটাস পরিচিতি :
মরুজ উদ্ভিদ হলেও জন্মস্থান আমেরিকা। এমনও প্রজাতির ক্যাকটাস আছে যাকিনা ৬০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়, ওজন হয় কয়েক টন! অধিকাংশ প্রজাতির ক্যাকটাসে পাতা নেই, কান্ড পাতায় রূপান্তরিত হয়। ফুল খুব সুন্দর। রাতে ফোটে। তবে অধিকাংশ ক্যাকটাসে ফুল হয় না। পানি ছাড়াও অনেক দিন বাঁচেতে পারে।

ক্যাকটাসের জাত নির্বাচন 
প্রায় দুই হাজার জাত আছে। ব্যারেল বা বল ক্যাকটাসের চাহিদা বেশি। অন্যান্য জাত হচ্ছে ফণিমনসার, উপজাত হলো ডিলেনাই, ইলেটিওর, কোচিনেলিফেরা, মনাকাটা, নাইগ্রিকান্স, ওপানসিয়া ইত্যাদি। নিপল ক্যাকটাসের উপজাতগুলো হলো কোয়াড়া স্পাইনা, এমটেনুইস, এমআট্রা ইত্যাদি। মেলোক্যাকটাস, সেরিয়াস, এপি ফাইলাস, রিপম্যালিস ইত্যাদি বহুজাতের ক্যাকটাস আমাদের দেশে পাওয়া যায়। 

ক্যাকটাস প্রাপ্তিস্থান 
দেশের সরকারি-বেসরকারি নার্সারি, হর্টিকালচার সেন্টার, বলধা গার্ডেন এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে ক্যাকটাসের শাখা-প্রশাখা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা চারা পেতে পারেন। ক্যাকটাসের কোনো বীজ হয় না। শাখা-প্রশাখা বা কাণ্ডের সবুজ অংশ রোপণ করে চারা উৎপাদন করা হয়। কখনো কখনো বনে-জঙ্গলে, ঝোপঝাড়ে, রাস্তার পাশ থেকেও ক্যাকটাস সংগ্রহ করতে পারেন। নার্সারিগুলো প্রায়ই ক্যাকটাসের অপ্রয়োজনীয় অংশ কেটে ফেলে দেয়। সেগুলোও সংগ্রহ করে আপনি ক্যাকটাস নার্সারি পড়ে তুলতে পারেন।

মাটি তৈরি পদ্ধতি 
অন্যান্য গাছ যে মাটিতে হয়, সে রকম মাটিতে কিন্তু ক্যাকটাস হবে না। ঝুরঝুরে বালি মাটিতেই ক্যাকটাস বাড়ে ভাল। ক্যাকটাসের মাটি তৈরি করতে লাগবে ১০ শতাংশ বালি, ৪০ শতাংশ মাটি আর ৫০ শতাংশ পারলাইট। এর মধ্যে খানিকটা রক ডাস্ট মিশিয়ে নিন। এ বার এই মাটি টবে ঢেলে অল্প জল দিয়ে তৈরি করুন ক্যাকটাসের মাটি। টবের উপরের দিকের মাটিতে ছোট ছোট পাথর, নুড়ি বা অ্যাকোয়ারিয়াম স্টোন রাখতে পারেন।

পাঁচ গ্যালন পানিতে এক টেবিল চামচ ভিনিগার মিশিয়ে অল্প অল্প করে রোজ ক্যাকটাসের টবে দিতে পারেন। ক্যাকটাসের জন্য ভাল পানিনিকাশির প্রয়োজন। তাই ক্যাকটাসের টবের নীচে একাধিক ছিদ্র করে দিতে হবে, যাতে গাছের গোড়ায় পানি জমে না যায়। ক্যাকটাসের টবের নীচের ছিদ্র দিয়ে যদি ক্যাকটাসের শিকড় বেরিয়ে আসে, তা হলে সেই টব পালটে ফেলুন। এমনিতেও তিন বছর অন্তর অন্তর ক্যাকটাসের টব বদলে দেওয়াই ভাল।

ক্যাকটাস চাষ পদ্ধতি
ক্যাকটাস ফুলের জন্য সামান্য কিছু হাড়ের গুঁড়া মাটির সঙ্গে মেশাতে পারেন। প্রতিটি মাটিভর্তি টবে/পলিব্যাগ/পাত্রে ক্যাকটাসের অঙ্গ বা কুঁড়িসহ একটু কান্ড রোপণ করে দিতে হবে। ১৫-২০ দিন পরই নতুন কুঁড়ি গজাতে শুরু করে। ক্যাকটাস খুব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। বেডে রোপণ করা অঙ্গ থেকে উৎপাদিত চারাও টবে লাগাতে পারেন। চারা উৎপাদনের জন্য তিন মিটার লম্বা এবং এক মিটার প্রস্থ আয়তনের বেডে পাঁচ ইঞ্চি দূরে দূরে ক্যাকটাসের অঙ্গ রোপণ করতে হয়। বেডের চারদিকে ১০ ইঞ্চি নালা রাখতে হয়। অতিবৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য পলিথিনের ছাউনি দিতে হবে। ক্যাকটাস চাষ বা চারা উৎপাদন বছরের যে কোনো সময় করা যায়। তবে মার্চ-অক্টোবর সবচেয়ে উপযোগী। চারার বয়স দুই মাস হলে বেড থেকে চারা তুলে টবে বা পাত্রে লাগাতে হবে।

ক্যাকটাসের যত্ন
ক্যাকটাসের শিকড় পোক্ত হতে কম করেও চার-পাঁচ মাস সময় লাগে। এই সময়ে ক্যাকটাসের যত্ন প্রয়োজন। খেয়াল রাখতে হবে, ক্যাকটাসের শিকড় যেন পচে না যায়। রোজ এই গাছে জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে এক থেকে দু’দিন জল দিলেই যথেষ্ট।
খেয়াল রাখুন ক্যাকটাসের টবের মাটি শুকিয়ে যাচ্ছে কি না। এ ক্ষেত্রে কেক চেক করার পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন। একটা লম্বা কাঠি নিয়ে টবের মাটিতে ঢুকিয়ে আবার বার করে নিন। কাঠির শেষ প্রান্তে যদি মাটি লেগে থাকে, তা হলে বুঝবেন গোড়ায় জল আছে। সে ক্ষেত্রে আর জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু কাঠির আগা যদি শুকনো হয়, ঝুরঝুরে মাটি লেগে থাকে, তা হলে বুঝবেন আরও জল প্রয়োজন। ক্যাকটাসে জল দরকার হলেই দিন।

আলো ব্যবস্থাপনা
আলোও খুব জরুরি। তাই বারান্দায় বা ছাদে যেখানে আলো বা রোদ পাবে, এমন জায়গায় ক্যাকটাস রাখুন। তবে খেয়ালও রাখতে হবে। কারণ কিছু ক্যাকটাস রোদে পুড়ে মরচে রঙা হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে রোদ থেকে সরিয়ে ছায়ায় রাখতে পারেন ইনডোর প্ল্যান্ট হিসেবে ক্যাকটাস রাখলেও মাঝেমধ্যে অর্থাৎ সপ্তাহে দু’-তিন বার রোদে দিন।

পোকামাকড় মুক্ত করণ
পোকামাকড়মুক্ত রাখতে বাড়িতে এক টেবিল চামচ ভিনিগার, বেকিং সোডা ও জল মিশিয়ে ক্যাকটাসে স্প্রে করতে পারেন। মাসে এক বার স্প্রে করলেই যথেষ্ট। গোড়াতেই বিভিন্ন প্রজাতির একাধিক ক্যাকটাস না কেনা ভাল। বর‌ং সাধারণ ক্যাকটাস এনে তার যত্ন নিন। ক্রমশ তা আয়ত্তে এলে অন্যান্য প্রজাতির ক্যাকটাসও কিনে আনতে পারেন স্বচ্ছন্দে।

ক্যাকটাসের পরিচর্যা
তেমন পরিচর্যার প্রয়োজন না হলেও টবে রোপণকৃত ক্যাকটাসে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার পানি দিতে হয়। দুই-তিন মাস পরপর দুই-তিন দিনের জন্য রোদে দিলে ক্যাকটাস দ্রুত বৃদ্ধি পায় ও সবুজ হয়। পাঁচ-ছয় মাস পরপর টিএসপি ও এমপি সার দিলে বৃদ্ধি স্বাভাবিক থাকে। এক বছর পরপর সরিষা পচা খৈল ও পচা গোবর মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হয়। নষ্ট, রোগাক্রান্ত ও অাঁকাবাঁকা শাখা-প্রশাখা বছরে একবার ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে কেটে দিতে হবে। পাঁচ-সাত বছর পরপর টবের আকার-আকৃতি বড় করতে হবে। বনসাইয়ের মতো ক্যাকটাস নিয়ন্ত্রণ করে বা প্রুনিং করে বছরের পর বছর ঘরের ভেতর রাখা যায়।

আয়-ব্যয়
মাটিসহ ছোট আকৃতির টব বা পাত্রের খরচ পড়ে ৮-১০ টাকা। সারের দাম তিন-চার টাকা। ক্যাকটাসের শাখার দাম সর্বোচ্চ এক টাকা অথবা ফ্রি। প্রতিটি ক্যাকটাস গাছ রোপণের জন্য শ্রমিকের মজুরি এক টাকা। এতে একটি ক্যাকটাস গাছ উৎপাদন করতে ১৫-১৬ টাকা খরচ হবে। এক বছর পর এর দাম হবে জাতভেদে ৫০-১০০ টাকা। গাছের বয়স যতো বেশি হবে, দামও ততো বাড়বে। একটা গাছে ৩৫-৮৫ টাকা লাভ হবে।

তথ্যসূত্র

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত